ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা

ন্যানো টেকনোলজি কি? সুবিধা অসুবিধা জানুনছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা কি এই পোস্টে আমরা আপনাকে জানাবো। আপনি কি ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের এসব দিক জানতে চান ? তো চলুন রাত জেগে মোবাইল চালালে কি হয় ও ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা জেনে আসি।
multiplebd -ছাত্র-জীবনে-মোবাইল-ফোনের-অপকারিতা-ও-উপকারিতা

আধুনিক বিশ্বের যতগুলো প্রযুক্তি রয়েছে তার ভিতরে মোবাইল ফোন অন্যতম। ছাত্র জীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে এই মোবাইল ফোন রয়েছে প্রতিটা ক্ষেত্রে। তো চলুন জেনে আসা যাক  শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন  উপকারিতা ।.

ভূমিকা   

বর্তমান যুগে নেট দুনিয়ায় শিক্ষামুলক এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক তথ্য রয়েছে যা আপনার কল্পনার ও বাইরে । শিক্ষা ক্ষেতে যোগ করেছে উন্নয়নের নতুন এক মাত্রা, সবকিছুকে একসাথে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়। যেগুলো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা অতুলনীয়। তাইতো শিক্ষা ক্ষেত্রে মবাইল ফোন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ।

2021 এ যখন দেশব্যাপি Covid-19 মারাত্মক ভাবে লক্ষ কোটি মানুষের জিবন নিয়ে নিচ্ছিলো,,ঠিক এ সময়ে অন্য সকল দেশের মতো বাংলাদেশও এর প্রভাব ছিলো ভয়াবহ । একসময় দির্ঘ lockdown এ যখন স্কুল কলেজ বন্দ ছিলো,তখন আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকটা বিরুপ প্রভাব পড়েছিলো,ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় শিক্ষার মান অবনতির দিকে যাচ্ছিলো ।

ঠিক সেই সময় গুলতেও এন্ড্রয়েড ফোন ব্যাবহার করেও শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, এসাইনমেন্ট সহ ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলো একে অপরের সাথে । তাহলে চলুন এবার শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা কি ? এ  বিষয় নিয়ে বিস্তারিত -

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার যেমন উপকারী দিক আছে ঠিক তেমনি কিন্তু রয়েছে আর অনেক ক্ষতিকর দিক। অর্থাৎ আপনি ছাত্র জীবনে যদি সঠিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে এর ক্ষতিকর দিকগুলোর প্রতি আসক্ত হন তাহলে কিন্তু এটা আপনার জন্য ক্ষতির কারণ। চলুন জেনে আসা যাক ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা। 
  • পড়াশোনার ক্ষতিঃ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ইতিবাচক দিকগুলো যদি বেছে না নিয়ে নেতিবাচক দিকগুলো যদি বেছে নেওয়া হয় তাহলে ছাত্র জীবনে মোবাইল ব্যবহার করলে কিন্তু পড়াশোনার ক্ষতি হয়। বিশেষ করে যখন মোবাইলের প্রতি একটু বেশি আসক্ত হয়ে যায় তখন কিন্তু লেখাপড়া অনেক কম হয় এবং ছাত্রদের তখন মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে মোবাইল ফোন চালানো। আর এই মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের গেম ফেসবুক ইউটিউব চালানোর সহ একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জড়িয়ে পড়ার কারণে পড়াশোনাতে অনেক ক্ষতি হয়। 
  • কানে কম শোনাঃ ছাত্র জীবনে এসে পড়াশোনা করার বয়সে খুব বেশি যখন মোবাইল ফোনে আসক্ত হওয়া যায় আর যখন কানে এয়ারফোন ব্যবহার করা হয় তখন কিন্তু কানে অনেক ক্ষতি হয়। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে যদি কানে ইয়ারফোন ব্যবহার করা হয় এতে কিন্তু আমাদের শ্রবণ শক্তি কম হয়। এছাড়াও যখন অতিরিক্ত পরিমাণ সাউন্ড দিয়ে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে কোন কিছু শোনা হয় তখন এটা আমাদের কানের দীর্ঘস্থায়ী  বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
  • পুষ্টির অভাবঃ অধিক পরিমাণ মোবাইল ফোনে আসক্ত হওয়ার কারণে সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া এবং খাবারে মন না বসার কারণেই কিন্তু সঠিকভাবে না খাওয়া হলে এতে পুষ্টির অভাব তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন অধিক পরিমাণে মোবাইল ফোনে আসক্ত হওয়া হয় তখন খাবার রুচি না হওয়া এবং খাবার না খাওয়ার কারণে অপুষ্টি জনিত রক্ত হয়ে থাকে। 
  • ঘুমের ব্যাঘাতঃ ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অন্যতম সবথেকে একটি ক্ষতিকর দিক হচ্ছে ঘুমের ব্যাঘাত। অনেক  সময় দেখা যায় যে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয় এবং তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় । 
  • মস্তিষ্কের ক্ষতি করেঃ বিভিন্ন গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যে ছাত্র জীবনে এসে অধিক পরিমাণে যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয় এবং মোবাইল ফোনের আসক্তিটা যদি খুব বেশি হয় তাহলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে মস্তিষ্কে এক ধরনের ক্ষতিকর রেডিয়েশন প্রভাব বিস্তার করে। যে কারণে এটা মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা কি 

মোবাইল ফোন চিনেন না এমন মানুষকে আছে। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রবীন মানুষরাও মোবাইলের সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা কি এই বিষয়গুলো অনেকেরই অজানা। একজন ছাত্র হিসেবে বা একজন মানুষ হিসেবে অবশ্যই আপনার জানা দরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা  ও অপকারিতা কি। তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নিন শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা।
  • মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্লে স্টোর থেকে শিক্ষামূলক বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করে তারা শিক্ষা বাড়তি জ্ঞান অর্জন করছেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখা ও অনুবাদসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক জ্ঞানে নিজেকে জড়াতে পারছে ।
  • তাছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের না গিয়ে ঘরে বসে পরীক্ষার ফি সহ শিক্ষা সংক্রান্ত এমনকি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন বা পরীক্ষার ফলাফল বের করতে পারছে ।
  • তাছাড়া বর্তমানে ছোট বাচ্চারও ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা youtube এ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক কাটুন দেখেও বিভিন্ন ধরনের কবিতা বা বিভিন্ন বর্ণমালা পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারছে।
  • বর্তমানে অনেক মোটিভেশনাল ভিডিও অনলাইনে পাওয়া যায়। মোবাইল ফোন দিয়ে সেগুলো দেখার মাধ্যমে জীবনে আরও বিভিন্নভাবে উন্নতি করার দিক পাচ্ছে।
  • অনেক সবাই শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ করতে হয়।মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও যেকোনো জায়গা থেকে ভার্চুয়ালি শিক্ষা ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকা যায়। 
  • শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অফদান এখন এতটাই যেকোনো শিক্ষক যদি মনে করিস সে পড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত তথ্য বা ভিডিও ছাত্রকে দেখাবে। এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা।  শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের যেমন সুবিধা রয়েছে তেমন অসুবিধাও রয়েছে । একজন ছাত্র বা একজন মানুষ হিসেবে যেগুলো অবশ্যই আপনার জানা দরকার। কারন আপনিও কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার সাথে জড়িত। বা কোন ছাত্র/ ছাত্রীর অভিভাবক। তো চলুন জেনে আসা যাক শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অপকারিতা বিষয় নিয়ে -

আরও পড়ুনঃ ওয়াইফাই কি.? Wi-fi এর বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধা অসুবিধা সমূহ

  • শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অপকারিতা বিষয়গুলো নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি চলে আসে সেটা হল,অনেকেই অনলাইন ক্লাস করার অজুহাতে মোবাইল ফোন নিয়ে অপব্যবহার করছে।
  • আবার শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অনেক বেশি ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে একসময় এটা নেশায় পরিণত হচ্ছে তা একজন ছাত্রের জন্য মোটেও ভালো না।
  • বর্তমান সময়ে ফ্রী ফায়ার pubg সহ অনেক ভয়াবহ অনলাইন গেমস রয়েছে যেসব গেমে জড়িত হয়ে গেলে পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হয়।
  • শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে একসময় সেই ইন্টারনেট বিষয়ে বিভিন্ন কিছু জেনে যাবে,যার ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে একসময় খুব কম বয়সে পর্ন দেখা শুরু করছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
  • তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে একসময় যখন ক্ষতি হতে পারে ।
  • বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ফলে মাথায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  • তাছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে মোবাইল ফোন অনেক বেশি ব্যবহার করার ফলে পড়াশোনায় আর মনোযোগ দিতে পারছে না। যে কারণে পড়াগুলো আর মনে রাখতে পারে না। একসময় এর প্রভাব বিয়ে করছে তার কর্মজীবনে।
  • অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়। অধিক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। পিতা-মাতা আর ভালো কথা বললেও যেকোনো সময় তারা চিৎকার করে ওঠে।
  • তাছাড়া বর্তমানে এই ডিজিটাল বিশ্বে মোবাইল ফোনের এমন অনেক খারাপ দিক আসতেই চলছে যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য হুমকি স্বরূপ।

দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার

আমরা জেনেছি ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা। দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহারদৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহারএতক্ষণ তো আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের উপকারিতা  ও অপকারিতা কি বিস্তারিত কিছু জানলাম। কিন্তু শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও মোবাইল ফোনের ব্যবহার রয়েছে অনেক রকম ভাবে। তো চলুন এবার জেনে আসা যাক দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পর্কে।
multiplebd -শিক্ষা- ক্ষেত্রে মোবাইল -ফোনের -উপকারিতা - ও -অপকারিতা- কি
  • মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আমরা একে অপরের সাথে মেসেজ করে কথা বলি। 
  • মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই আমরা বিভিন্ন কিছু অর্ডার করতে পারি। 
  • যখন বাইরে ঘুরতে যাওয়া হয় তখন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার ব্যবহার তো রয়েছো অনেক। 
  • সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠার জন্য এলার্ম এর  কাজে ঘড়ির পরিবর্তে এখন মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। শুধু কি তাই এর সাথে এখন তো অনেক রকম ফিচার যোগ করা হয়। কি স্টাইলে বাজবে কতক্ষণ বাঁচবে কিভাবে বাজবে সব রকম। 
  • বিভিন্ন সময় যখন বাজার করতে যাওয়া হয় অনেকেই খেয়াল থাকে না কি কিনতে হত। মোবাইল ফোন ব্যবহার করার মাধ্যমে নোট প্যাডে সেটা আগে থেকেই লিখে লিস্ট করে রেখে বাজারে গিয়ে কেনা যায় আরামের সাথে। 
  • বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে খুব সহজে ঘরে বসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো হয় খুব সহজে। 
  • মোবাইল ফোন ব্যবহার করার মাধ্যমে মাধ্যমটা আরো স্মার্ট হয়ে গেছে। 

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচার উপায়

মোবাইল ফোন এক থেকে যেমন আমাদের অনেক উপকার সাধন করে ঠিক তেমনি কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার করার কারণে এটা হতেও কারণ হতে পারে। আর উপযুক্ত সচেতনতা অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি কিন্তু মোবাইল ফোনের এ সকল ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। তো চলুন জেনে আসা যাক মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচার কিছু উপায়। 
  • সারাদিন কত ঘন্টা সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন সে বিষয়টি নোট করুন এবং দীর্ঘ সময় ধরে যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয় তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। 
  • দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে মোবাইল ফোন ব্যতীত আপনার আনন্দ কিংবা বিনোদন গুলো উপভোগ করার পন্থ অবলম্বন করুন। 
  • বিশেষ করে যখন আপনি ঘুমোতে যাবেন কিংবা ড্রাইভ করবেন এ সময়গুলোতে কোন অবস্থাতেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। 
  • অতিরিক্ত ভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে যে ক্ষতিকর দিকগুলো রয়েছে তা সম্পর্কে নিজে অবগত হন এবং পাশাপাশি আপনার পরিবারের সবাইকে অবগত করুন। 
  • বিশেষ করে রাতের সময় যখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন তখন মোবাইলে টাকা নাইট মুড চালু করুন। 
  • সব থেকে ভালো হবে মোবাইল ফোনে গেম খেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 
  • মোবাইল ফোনের সাউন্ড নরমাল রাখার চেষ্টা করবেন কারণ অতিরিক্ত পরিমাণ সাউন্ড দিয়ে যদি গান শোনা হয় তাহলে এতে করে আপনার ক্ষতি হতে পারে। 
  • যে সকল সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গুলো রয়েছে সেগুলোতে একটা নির্ধারিত সময় ব্যয় করতে হবে অথাৎ অতিরিক্ত পরিমাণে চালানো যাবে না। 

মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা  তো আমরা জানলাম। অনেকে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছেন মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে। আজকের আর্টিকেলের এই অংশটি পড়লে আপনি জানতে পাবেন মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে। শুনুন তাহলে আবার বিস্তারিত ভাবে জানা যাক। 
  • প্রয়োজন না থাকলে ডাটা এবং ওয়াইফাই বন্ধ রাখুনঃ আপনার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ডাটা এবং ওয়াইফাই গুলো বন্ধ করে ফেলুন। মোবাইলের এরকম অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রয়েছে সেগুলো নিজে থেকে চলতে পারে এজন্য ডাটা অফ করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 
  • দীর্ঘ আলাপ এড়িয়ে চলুনঃ ফ্যান করে দেখবেন এবং অনেকে আছে যারা একবার মোবাইলে কথা বলা শুরু করলে তা জেনে আর শেষ হয় না চলতে থাকে। গবেষকরা বলেন এতে করে মাথা অথবা কানের কাছে যখন মোবাইল ফোন থাকে তখন সেখান থেকে আসে রেডি হয়ে সিগন্যাল গুলো অনেক সময় ধরে যদি চলতে থাকে তাহলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। 
  • শিশুদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখুনঃ প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের থেকে মোবাইল ফোন ধরে রাখাই ভালো। গবেষকরা বলেন মোবাইল ফোন থেকে যে বিকিরণ আছে সেটা হারের ঘনত্ব কে প্রভাব ফেলে। এজন্য ছোট বাচ্চাদের বেশি করে মোবাইল ফোন না চালালেই ভালো।
  • নিরাপদ চার্জিংঃ ফোন চার্জ দেওয়ার সময় নিরাপদ ভাবে চার্জে দিতে হবে। মোবাইল ফোন কেনার সময় নির্দিষ্ট যে চার্জার রয়েছে সেটা দিয়ে ফোন চার্জ করুন। মোবাইল চার্জ দেওয়ার অবস্থায় মোবাইল চালানো থেকে বিরত থাকুন। 
  • দুর্বল সিগন্যাল এলাকা পরিহারঃ যে স্থানগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল এবং সিগন্যাল পেতে অনেক শক্তি ব্যবহার করতে হয় মোবাইল ফোনকে এসব এলাকা পরিহার করুন। যেসব জায়গাগুলোতে মোবাইল সিগন্যাল ভালো এগুলো বেছে নিন। গাড়িতে যখন ভ্রমণ করবেন তখন ফোন কল এড়িয়ে চলতে হবে। 

বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়

বর্তমান সময়ে এসে শিশুরা কিন্তু মারাত্মকভাবে মোবাইল ফোনে আসক্তি হচ্ছে। যে কারণে বাচ্চাদের মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানোর উপায় আমাদেরকে জানতে হবে। কারণ সঠিক সময়ের যদি বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি কমানোর না হয় তাহলে কিন্তু এতে করে এক সময় আপনার বাচ্চা কন্ট্রোলের বাইরে চলে যেতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নিন বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায় গুলো। 

সন্তানকে ঘরের বাইরে পাঠান 

শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ এর জন্য শিশুদেরকে ঘরের বাইরে নিরিবিলি পরিবেশে পাঠাতে হবে। এতে করে বাচ্চার স্বাস্থ্য যেমন সঠিকভাবে বিকাশ পাই ঠিক তেমনি বাচ্চা বাইরে সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরতে পারে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে দূর হয়। এজন্য আপনার বাচ্চার হাতে এমন খেলনা দিবেন যেগুলো সে বাইরে গিয়ে খেলতে পারবে। এছাড়া আশপাশে থাকা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে আপনার বাচ্চাকে পরিচয় করানোর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে খেলাতে উৎসাহ করতে পারেন। প্রয়োজনে আপনি তাকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দিতে পারেন এতে করে কিন্তু সে বাইরে গিয়ে খেলতে উৎসভাবে এবং স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে দূরে সরে যাবে। 

শিশুর হাতে স্মার্ট ফোন তুলে না দেওয়া 

অনেক মা-বাবা আছেন যারা কিনা খুব অল্প বয়সেই তাদের শিশুর হাতে স্মার্টফোন তুলে দেয় কিন্তু এটা একদমই ঠিক না। কারণ বাচ্চা বয়স হয়েছে শিশু যদি স্মার্টফোন হাতে পায় তাহলে এতে করে ধীরে ধীরে এসে মোবাইল ফোনে আসক্তি হবে যে কারণে বাচ্চাদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে তাকে নিত্য নতুন খেলনা দিয়ে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে ধরে রাখতে পারেন। 

বাচ্চাকে সৃজনশীল কাজে উৎসাহ করা 

এমন অনেক সৃজনশীল কাজগুলো আছে যে কাজগুলো করতে আপনার বাচ্চাকে উৎসাহ প্রদান করেন। বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর কিংবা পোষা পাখিকে খাবার দেওয়া এছাড়াও বিভিন্ন জিনিসপত্র বানানো ইত্যাদি কাজগুলো করতেও প্রদান করেন এতে করে বাচ্চা মজা পাবে এবং মোবাইল ফোনের আসক্তি কম হবে। 

বাচ্চার সামনে স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে না 

সাধারণত ছোট বাচ্চারা বড়দের থেকে শিখে যে কারণে বড়দের হাতে স্মার্টফোন দেখার কারণে তাদেরও মনে আগ্রহ জন্মায়  স্মার্টফোন নিতে। এজন্য শিশুর সামনে কোন ধরনের চ্যাট করা কিংবা গেম খেলা অথবা ইউটিউব ভিডিওসহ এ সমস্ত কাজগুলো করা যাবে না। এতে করে বাচ্চা কিন্তু স্মার্টফোন আসক্তি থেকে দূরে থাকবে। 

সন্তানকে যথেষ্ট সময় দিন 

এমন অনেক মা-বাবা আছে যারা কিনা তাদের সন্তানকে ঠিকভাবে সময় দেয় না যে কারণে দেখা যায় যে শিশুরা মারাত্মকভাবে স্মার্ট ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ে। এজন্য আপনার সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেবেন। কাজের ফাঁকে তাকে মাঠে নিয়ে যান কিংবা এটা সেটা খাওয়ান এ ছাড়াও আত্মীয়দের বাড়িতে বেরিয়ে নিয়ে আসুন। এতে করে কিন্তু বাচ্চা স্বাভাবিকভাবেই স্মার্টফোন আসক্তি থেকে অনেক দূরে থাকবে। 

রাত জেগে মোবাইল চালালে কি হয়

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা আমরা তো তা জেনে গেছি। বর্তমান সময়ে প্রায় অনেকেই আসক্ত রাত জেগে মোবাইল চালানোতে। কিন্তু অধিক সময় ধরে এভাবে রাত জেগে মোবাইল চালানো হলে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতি হতে পারে যেগুলো অবশ্যই আমাদের জানা দরকার।
multiplebd -শিক্ষা- ক্ষেত্রে মোবাইল -ফোনের -উপকারিতা - ও -অপকারিতা- কি
তাই আজকে আর্টিকেলে এই অংশে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি রাত জেগে মোবাইল চালানো হলে কি হবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
  • বিশেষজ্ঞরা বলেন মোবাইল ফোন থেকে আসা যে নীল আলো এটা ঘরের লাইট যখন বন্ধ করে দিয়ে আমরা রাত্রিকে ফোন চালায় তখন সে আরো আরো তীক্ষ্ণ হয় এবং এটা দৃষ্টি শক্তি সহ শরীরের অনেক ক্ষতি করে।
  • অধিক রাত জেগে মোবাইল ফোন চালানো হলে এটা পর্যন্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়ার কারণে মন এবং মস্তিষ্কের অনেক ক্ষতি করে।
  • রাত জেগে যদি অধিক সময় পর্যন্ত মোবাইল ফোন চালানো হয় তাহলে এটা চোখে ব্যথা অনুভূত করতে পারে।
  • রাত জেগে যদি কেউ মোবাইল চালায় তাহলে এক্ষেত্রে খুদা অনুভূত হওয়ার কারণে ঠিকঠাক ভাবেই না খেয়ে ভুলভাল খেলে সেখান থেকে সম্ভাবনা তৈরি হয় টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস হওয়ার।
  • অধিক রাত থেকে যদি মোবাইল ফোন চালানো হয় তাহলে এক্ষেত্রে শরীর তো ক্ষতি হয় এবং এর পাশাপাশি ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় যা পড়াশুনাতে ব্যাঘাত ঘটায়। 

লেখকের মতামত 

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন অপকারি্তাও  রয়েছে। তাই আমাদের উচিত এর খারাপ দিকগুলো ব্যবহার না করে ভালো দিকগুলো বেঁছে নেওয়া।এসব দিকগুলো মেনে চলতে পারলেই ছাত্র জীবন সফল হবে। আশা করছি এ পোস্ট পড়ার  মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়সমূহ  জানতে পেরেছেন । 

প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ তো ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা ও উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত বিষয় জানলেন।এ পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।  এই সকল তথ্যগুলো পেতে অবশ্যই আমাদের  এইwww.multiplebd.com ওয়েবসাইটটি নিয়মিত  ভিজিড করুন। আর হ্যাঁ, এই সকল তথ্যসেবা আপনার আশপাশের মানুষদেরও পাবার জন্য অবশ্যই ওয়েবসাইটটি শেয়ার করে দিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাল্টিপল বিডির নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন । প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url